খেলাফত,রাজতন্ত্র, গনতন্ত্র এবং মুসলিমদের দায়, দায়ীত্ব
🖋Mujibur Rahman
সবাইকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পড়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
======
সামান্য পরিসরে আলোচনা।
খেলাফত প্রথমত একটা থিওলজিকাল ও ফিলোসফিকাল ধারণা। এবং এর থিওলজিকাল ও ফিলোসফিকাল কাঠামোর উপর নির্ভর করেই খেলাফতের একটা রাজনৈতিক রূপ কল্পনা করতে হবে। কোরান মোতাবেক প্রতিটা মানুষই সম্ভাব্য খলিফা। কারন আল্লাহ মানব জাতিকে দুনিয়ায় খলিফা হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। তাইলে এখন ব্যক্তির বা বংশগত স্বৈরশাসন কীভাবে খেলাফতের একমাত্র দৃষ্টান্ত হতে পারে?
==
খেলাফত মানে রাজতন্ত্র না। কিন্তু খেলাফত রাজতন্ত্রে পর্যবসিত হয়েছে খোলাফায়ে রাশেদিনের আমলের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে। এবং এরপরের চৌদ্দশ বছরের ইতিহাসই প্রমাণ করে যে এক বংশ কেন্দ্রীক শাসনের সিস্টেম খেলাফত প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে। বরং, খেলাফতের নামে নানান রাজা বাদশাদের স্বৈরশাসন কায়েম হয়েছে। মুসলিম বিশ্বে লেজিটেমেসির প্রশ্নে, ক্ষমতা পরিবর্তনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে কোন সর্বজনগ্রাহ্য নিয়ম গড়ে তোলা যায় নাই।
==
এখনকার দিনে খেলাফত কথাটা রাজনীতিতে অর্থময় হতে পারে কেবল জনগণের খেলাফতের ধারণার মধ্যে। জনগণের খেলাফত মানে জনগণের সার্বভৌমত্ব না। জনগণের খেলাফত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই প্রয়োগ করা সম্ভব। রাজতান্ত্রিক কায়দায় না। জনগণের খেলাফত মানে তো এই না যে জনগণই প্রভু। কান্টিয় এনলাইটেনমেন্ট (Kant’s enlightenment) যেমন 'নিজেই নিজের প্রভু' ধরণের মানুষের ধারণা প্রচার করে, খলিফা কিন্তু তেমন মানুষের ধারণা না। খলিফা কারো দাস না। কিন্তু সে প্রভুও না। খলিফা হলেন সকল প্রাণের রিপ্রেজেন্টিটিভ।
==
উমাইয়া,আব্বাসীয়,ফাতেমিয়,ওসমানি যুগ কোনমতেই মূল খেলাফত ছিল না। ঐগুলিকে খেলাফত বললে একটা খারাপ সংকেত চলে আসে।এগুলি ছিল বংশীয় রাজতন্ত্র। এখনও আরব বিশ্বে তা প্রচলিত যা ইসলামিক ধারা নয়। আবার তালেবান কিংবা ইরান যতটা না বেশী ইসলামিক তার চাইতে অনেক অনেক বেশী কর্তৃত্বপরায়ন। মুসলিম সমাজে প্রথম চার খলিফা যেভাবে ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করে গেছেন তা পরবর্তিতে আজ পর্যন্ত আর কেহ পরিচালিত করতে সক্ষম হন নাই। তার পিছনে দুটি কারন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত ঐ চার খলিফার ব্যাক্তিগত আদর্শ ছিল অসাধারন। ওনারা ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত তাই অন্যান্য সকল মানুষ হতে ভিন্ন। ওনাদের সাথে কারও সামান্য তুলনা চলে না। দ্বিতীয়ত তাদের অসাধারন আদর্শের কারনে ঐ সময়ের মুসলিম জনগোষ্ঠির আদর্শিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠেছিল। চার খলিফা যা পেরেছেন অন্যান্যরা তা পারবেন না। এই বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। প্রমান হিসাবে ঐ চার খলিফার পরে আর কেও ওনাদের মতো করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে সক্ষম হন নাই। সক্ষম না হবারই কথা। সেই কারনে ঐ চার জান্নাতী মানুষ গুলির রাষ্ট্র ব্যবস্হা আর কারও কাছ থেকে আশা করা বোকামি। সেই কারনে যারাই বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্হায় ওনাদের ন্যায় রাস্ট্র ব্যবস্হার দাবী তোলেন তা মোটেই বাস্তব সম্মত না।
==
তাই আমরা দেখি পরবর্তিতে সৃষ্টি হয় মত বিরোধ,দ্বন্দ,সংঘাত। তাই কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়ে উঠে নাই বরং সংঘাত বৃদ্ধি পেতে পেতে আজ মুসলিম সমাজ সম্পূর্ন দ্বিধা বিভক্ত। মুসলিমরা নিজেরাই একজন আরেকজনকে ধ্বংসের কাজে নিয়োজিত।
কিন্তু তাই বলে কি ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্হা গড়ে উঠবে না? অবশ্যই গড়ে উঠতে হবে। আগেই বলেছি কেন খোলাফায়ে রাশেদীন প্রতিষ্ঠা সম্ভব না আবার উমাইয়া, আব্বাসীয়,উসমানীয়, মোগল, সৌদি রাজতন্ত্রও ইসলামি না।
==
যদিও ইউরোপ আজতক কান্ট প্রস্তাবিত এনলাইটেড বা আলোকিত মানুষের সমাজ কায়েম করতে পারে নাই। তাই তাদের গণতন্ত্র এখনো জাতিবাদ, বর্ণবাদ থেকে মুক্ত হতে পারে নাই। মানুষের উপর যন্ত্রের এবং প্রকৃতির উপর মানুষের প্রভুত্ব কায়েম করা পুঁজিবাদের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে।
==
কিন্তু একটা ব্যাপার মুসলিম সমাজের অজ্ঞতার কারনে আজ পর্যন্ত আমরা বুঝতে পারি না যে মূলত ইউরোপীয় চিন্তার বিকাশ হয়েছে প্রাচ্য ও মুসলিম ধ্যান ধারনার উপর ভিত্তি করে।আমি এই বিষয় একটি আলাদা আর্টিক্যাল লিখবো।
Descartes. Pascal, Gassendi,Malebranche,Hobbes,Butler,Carlyle Spinoza,Leibnitz, Kant,Hegel প্রভৃতি সকল ইউরোপীয় বিদ্যান ব্যাক্তি ইমাম গাজ্জালী, ইবনে রুশদ, আল ফারাবী, হাইয়াম, ইবনে সিনা, ইবনে খালদুন প্রভৃতি মহিষীদের কাছ থেকে জ্ঞান নিয়ে ইউরোপকে সমৃদ্ধ করেছে।চিন্তা করেন সমাজ তন্ত্রের কার্ল মার্কসের গুরু হেগেল মুসলিম মনিষি ইবনে রুশদ হতে অনুপ্রানিত হয়েছেন।
==
এখন সমস্যা হলো। খলিফা কে হবেন? রাসুলের বংশধরগন? আধ্যাত্মিক সাধনায় উত্তীর্ন পীর,বূজর্গ? নাকি ইসলামিক জ্ঞান চর্চায় বা স্টাডিস ও বিশ্ব রাজনিতি,অর্থনীতিতে পারদর্শী কোন আলেম?প্রতিনিধি বা খলিফা কি ভাবে নির্বীচিত হবেন? আলেমদের দ্বারা? এই আলেমদের কে নির্বাচিত করবেন এবং এই আলেমদের নির্বাচনের ক্যাটাগরি বা গুনগুলি কে নির্বাচন করবে? চার খলিফা তো রাসুলের নির্বাচিত ছিল আর রাসুল আল্লাহর হুকুম ছাড়া কিছু করতেন না। এখন তো আর ওহি আসবে না ।তাহলে নির্বাচনের পদ্ধতি কি?মুসলিম দার্শনিকগনও এই বিষয় প্রচুর জ্ঞানালোচনা করেছেন আর এই মুসলিম মনিষিদের চিন্তাসমূহের দ্বারা ইউরোপের চিন্তা জগতেও ঝড় উঠেছে সেই ঝড়কে সামাল দেবার জন্যই আমেরিকার বিল আব রাইটস, মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র, সমতা,ন্যায় বিচার্য মানবিক মর্যাদা,চিন্তার স্বাধীনতা এই বৈশ্বিক অধিকার গুলি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
==
ইউরোপিয় চিন্তা ধারা কে অনেকে ভাবেন Plato এর রিপাবলিক এবং এরিস্টটলের নিকোমোচিয়েন এথিক্স থেকে এসেছে। বিষয়টা পুরাপুরি সত্য নয়। এই সকল চিন্তাধারা মূলত এসেছে ইবনে সিনা ,ইবনে রুশদ,ইবনে ফারাবী, ইবনে খালদুন্, ইমাম গাজ্জালির কর্ম যজ্ঞ হতে। হাঁ এটা ঠিক ওনারা গ্রীক দর্শনের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল কিন্তু এটাও সত্যি যে এই মুসলিম জ্ঞান সাধকগন তাদের নিজস্ব জ্ঞানতত্বে বিশ্বে উদ্ভাসিত হয়ে ছিলেন। Padua এবং Toledo এর একাডেমিকস গুলিই প্রকৃতপক্ষে ইউরোপে প্রভাব বিস্তার করেছে যাকে ইউরোপিয়রা নাম দিয়েছে ইউরোপের রেঁনেসা হিসাবে। দু:খজনক হলেও পরবর্তি মুসলিম জগত তাদের পূর্বসূরী মুসলিম মনিষিদের জ্ঞানকে আরও আগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন নাই। তাই বলে সময় এখনও শেষ হয়ে যায় নাই। মুসলিমদের সবকিছুকে কাফেরদের চিন্তা, কাফেরদের রাষ্ট্র ব্যবস্হা ভাবার কোন কারন নাই। কাফেররা মুসলিমদের জিনিষ নিয়েই নাড়া চাঁড়া করছে। মুসলিমদের বরং এই গুলি ইউরোপিয়দের কাছ থেকে নিয়ে এসে আরও পরিশুদ্ধ করে তুলতে হবে যেটা মুসলিমদের পূর্ব পূরুষরা করে রেখে গেছে। গনতন্ত্রও মুসলিমদেরই একটি ধারনা এটিকে আরও পরিশুদ্ধ করা মুসলিমদেরই কর্তব্য।কারন বর্তমানে এই গনতন্ত্রের বাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
==
এখন আসা যাক ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্হা মূল মন্ত্র কি হবে?
কুরআনের বিধান মতে শাসনের সত্যিকার রূপ হবে, রাষ্ট্র আল্লাহ এবং রাসূলের আইনগত কর্তৃত্ব (Legal Supremacy) স্বীকার করে তাঁর স্বপক্ষে সার্বভৌমত্ব (sovereignty) ত্যাগ করবে এবং আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব এর ভূমিকা গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা ও ইখতিয়ার আইনগত, প্রশাসনিক বা বিচার সম্বন্ধীয় যাই হোক না কেন-উপরে আল্লার আইনের সার্বভৌমত্ব, রাসূলের মর্যাদা ও উর্ধ্বতন আইন শিরোনামে বর্ণিত চৌহদ্দীর মধ্যে অবশ্য সীমিত থাকবে। এটাই তো মূল উপাদান?
==
খলিফা অর্থ আমরা বর্তমানে কি বুঝবো? যুক্তি দিয়ে বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করি। খলিফা শব্দটির আভিধানিক অর্থ উত্তরাধিকারী, প্রতিনিধিত্বকারী, স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি, কর্মাধ্যক্ষ, জনসমষ্টির দেখাশোনার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। ইসলামী পরিভাষায় খলিফা হলেন এমন ব্যক্তি যিনি যাবতীয় বিষয়ে শরীআত অনুযায়ী রাষ্ট্রলপরিচালনা করবেন। ইসলামী রাষ্ট্রে খলিফা সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে গভর্নর, শাসক, নেতা, বিচার প্রতি নিযুক্ত করেন।
==
সেক্ষেত্রে খলিফা কার উত্তরাধিকারী? এক কথায় রাসূলের উত্তরাধিকারী। তাই তো? রাসূলের উত্তরাধিকার কি? তিনি বিদায় ভাষনে তার পরবর্তিতে তে কোরআন আর সুন্নাহর কথাই বলেছেন। ঘুরে ফিরে কিন্তু এরই কথা যা পূর্বে উল্লেখ করেছি।
==
খলিফা কারও উপর এবং প্রকৃতির উপরও প্রভুত্ব করতে পারবেন না। আবার কারো দাসত্বও করবে না। তারা সকল প্রাণের রিপ্রেজেন্টেটিভ হবে। এবং সকলের হক আদায়ের রাজনীতি করবে। তারা হযরত আলী (রা:) মতো চিন্তা করবে যে, একটা পিপড়ার হক নষ্ট না করাও তাদের দায়িত্ব। তারা পাশ্চাত্যের মতো এমন অধিকারের ধারণায় বিশ্বাস করবে না, যাতে অধিকার আর দায়িত্বকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বরং তারা সেই হকের ধারণায় বিশ্বাস করবে, যার অর্থ অধিকার ও দায়িত্ব।
==
উপরে যা বললাম তা হলো মূলনীতি। এরপরে কী ধরণের পদ্ধতিতে জনগণের খেলাফত কায়েম করবেন, সরকারের বিভিন্ন পদে উপযুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচন পদ্ধতি কেমন হবে, তা আলাপের ব্যাপার।এবং এই আলোচনায় জজবাতি না জ্ঞানকেই প্রাধান্য দিতে হবে।
==
==
সেই যে চার খলিফার পর থেকে রাজতন্ত্র কায়েম হলো তা এখনও অবধি চলছে।যেটা কোন মতেই ইসলামের খলিফা তত্বের সাথে যায় না ।
==
কিন্তু এটা করতে গেলে সমস্যাটা হবে যেটা সেটা হলো সেই সময়কার জীবিত অনেক সাহাবীগনও এই রাজতন্ত্র মেনেই নিয়ে ছিলেন। এটাকে ওভারকাম করতে হবে।
==
আমি এখানে পশ্চিমা বলবোনা কারন পশ্চিমা বলে বা western civilization বলে মূলত কিছু নাই। এটা আমি একদিন সম্পূর্নটা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবো ইনশাল্লাহ ।কিন্তু তাদেরকে বলতে পারি অন্য পক্ষ। এই অন্য পক্ষকে আমরা যতই তিরস্কার করি তারা কিন্তু একটা unified jurisprudence দিতে পেরেছে। যদিও তাদের সকল methodologies মুসলিমদের কাছ থেকেই পাওয়া কিন্তু বিভিন্ন বিপ্লব করে তারা মুসলিমদের সকল অবদান কে কাজে লাগিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্হা থেকে শুরু করে প্রতিটি এক্যাডেমিক পর্যায়ে একটি systematic ধারা নিয়ে এসেছে। আর মুসলিমরা দীর্ঘদিন থেকে কেবল ফেরকা বৃদ্ধি করেই চলেছে। সম্ভবত ইরান ছাড়া রাষ্ট্রিয় পর্যায়ে কোন মুসলিম দেশই কোন ক্ষেত্রকে ইসলামিকিকরন করতে পারে নাই। কিন্তু বিশ্ব মুসলিম সমাজ প্রচন্ড বিভক্ত বিধায় ইরানের বিপ্লবও বিপদের মুখে পরে গেছে।আবার অনেকের কাছে ইরান তো মুসলিম দেশই না।তবে আমি ইরান বিপ্লবকে একটা এক্সপেরিমেন্ট হিসাবেই দেখতে চাই। John Simpson এর “Behind Iranian lines” আমাকে এটা বুঝতে অনেক সাহায্য করেছে।
==
পরবর্তী পশ্চিমা গনতন্ত্রের মূল বানীতো সেকুলারই হবে কারন তাদের ধর্ম বিরোধী মনোভাবের জন্য চার্চের ক্ষমতার অপব্যবহারটাই মূলত দায়ী। এটার জন্য সম্পূর্নভাবে তথাকথিত খৃষ্ট ধর্ম দায়ী। আমরা মার্কসবাদ বলি আর আধুনিক গনতন্ত্রই বলি সব এসেছে খৃষ্ট ধর্মের বিরোধীতা থেকে । God কে dead করে তারা একটা সিস্টেম তো যেভাবেই হোক দাঁড় করিয়েছে।ধনতন্ত্র,সমাজতন্ত্রের যাঁতাকলে বিশ্ব অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে ঠিকই কিন্তু মিশ্র অর্থনীতির কথাও উঠছে। এখন আমরা দেখলাম গনতন্ত্রের ধারনা কিন্তু এসেছে মুসলিম মনিষিদের কাছ থেকে।বর্তমান জ্ঞানতত্বে এই মুসলিম মনীষা ইবনে রুশদ যিনি এই ব্যাপারে প্রচুর জ্ঞান সাধনা করেছেন। তার বই,
১)Tahafut Al-Tahafut: The Incoherence of The Incoherence;
২)The Definitive Statement - Determining The Relationship between Divine law & Human;
৩)Wisdom: Kitab Fasl al Maqal wa Taqrir Ma Bayna'l Shari'a wa'l hikma min al-ittisal;
৪)On the Harmony of Religions and Philosophy;
আল ফারাবীর বিখ্যাত বই সমূহ যেমন:
১)“The Distinguished Jurist's Primer: A Translation of Bidayat Al-Mujtahid”;
(২)On the Perfect State; Kitab Rilasa al-Huruf
– (৩) Kitab Tahsil al-Saida,
ইবনে খালদুনের বই : The Muqaddimah;
ইবনে সিনার (১) Al Qanoon;
(২)Remarks and Admonitions: Logic (Mediaeval Sources in Translation)।
আল কিন্দির বিশাল ভলিউম, The Philosophical Works of Al-Kindi।
==
এনারা সকলেই গনতন্ত্র, মত প্রকাশ, যৌক্তিকতা, বৌদ্ধিক জ্ঞান সাধানায় পরবর্তী সকল জেনারেশনকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন কিন্তু পরবর্তী মুসলিম জনগোষ্ঠি পিছিয়ে পরেছে পারস্পরিক কোন্দলে।
==
যাইহোক অধুনা ইসরাইলী জায়নিজম, তালেবান,আই এস এল,বোকো হারাম,ভারতের হিন্দুত্বভা সবগুলিই আবার অন্য ধর্মগুলিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তালেবান,আইএসএল,বর্তমান জঙ্গীবাদ CIA ও Mosad এর পৃষ্ঠপোষকতায় সৃষ্ট।বাংলাদেশর পরিপ্রক্ষিতে Raw বাংলা ভাই কে সৃষ্টি করেছে। এই বাংলাভাইকে দমন করেন যেই বীর সেনা অফিসার কর্নেল গুলজার তাকে পিলখানায় ক্ষতবিক্ষত করে হত্যা করা হয়। যেটার সাথেও জড়িত ছিল Raw। স্বৈরাচারী রাজনীতিতেও পশ্চিমাদের সন্তুষ্ট করতে জঙ্গী দমনের নাটক করা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের অত্যাচারও একটা জঘন্য রাজনীতি ।মূলত বিষাক্ত রাজনীতিই War on terror থেকে সকল কিছু পরিচালিত করা হচ্ছে।
==
মুসলিমরাও সূদ,জাকাত এই দুইটি বিষয়কেও পর্যালাচনা করে বিকল্প কোন অর্থনীতি দাঁড় করাতে সক্ষম হয় নাই। কিন্তু মুসলিম ফেরকাবাজীতে কোন বিশ্ব আইন নীতি প্রনয়ন হচ্ছে না। তাই আমাদের এখনই ফেরকা নিয়ে যুদ্ধ করা বন্ধ করতে হবে এবং মত পার্থক্যকে আল্লাহর বিচারের উপর ন্যাস্ত করতে হবে।
মুসলিম সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই দ্বন্দ্ব বিরাজমান। সবাই রাজা।এটা বন্ধ করতে হবে।
**প্রতিটি মুসলিম কে বুঝতে হবে যে,ফিলিস্তিন,কাশ্মির,চেচেনিয়া,উইঘুর,রোগিঙ্গা সহ সমগ্র বিশ্বে যে সমস্যা গুলি চলছে তার জন্য আমারা প্রত্যেক মুসলিম যারা একে অপরকে শত্রু বানাচ্ছি তারা সকলেই দায়ী। আমাদের ঐক্যবদ্ধতার অভাবে ঐ ফিলিস্তিনের মানুষের রক্ত ঝরছে। আমরা প্রত্যেক মুসলিমরা এই জন্য দায়ী এবং আমাদের কবরে এর জবাব দিতে হবে। So stop conflict now.**
==
ইউরোপে অবশেষে সেকুল্যার গনতন্ত্রে জনগনকেই ক্ষমতার প্রধান শক্তি হিসাবে ধরতে হয়েছে কারন কেউ আর চার্চের কিংবা বিভিন্ন প্রকারে বাইবেলে ফেরত যেতে চায় নাই। বিষয়টি কিন্তু খৃষ্ট সমাজ কেন্দ্রিক। তাদের ধর্মীয় দ্বন্দের যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল সেটা ইসলামিক বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজের অনুপস্হিতিতে মুসলিমরা পূরন করতে ব্যর্থ হয়েছে। জাতি রাষ্ট্র সূচনায় আরবরাদের Pan Arabism ও মারাত্মক ভাবে দায়ী। ব্রিটিশ,ফ্রেন্সের হাতে তারাই আরব ভূখন্ডের শাসনভার তুলে দিয়েছে। প্যালেষ্টাইন সমস্যার মূল দায়ী এই আরব রাই।ইউরোপের সেকুল্যারিজমের জন্য ১২শ শতাব্দীর পর হতে বর্তমান পর্যন্ত সকল মুসলিম সমাজ দায়ী। কারন ৮শ থেকে ১২শ শতাব্দী পর্যন্ত মুসলিমরা বিশ্বকে আলো দেখালো অথচ হঠাৎ মাঝ পথে বিশ্বকে মুসলিমরা আর আগিয়ে নিয়ে যেতে পারলো না।
==
তারাই সব কিছু ব্যর্থ করে দিয়েছে।
খলিফাদের জনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামিক এ্যকাডেমিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে হবে।ইসলামি আইনের একটা বিশ্বজনিনতার রুপ দিতে হবে।
==
মালমসলা সবই মজুত আছে কারন কোরআন অবিকৃতই রয়ে যাবে। আমাদের মুসলিমদের কেবলা মক্কা। সেটাকেই কেন্দ্র করে Islamic academic সেন্টার গড়ে ওঠার সবচাইতে উত্তম স্হান।কিন্তু ঐ স্হান তো এখন ইউরোপ,আমেরিকার দখলে।
==
আমরা মুসলিমরা যতদিন না কোরআনের মতো এক হতে পারছি ততদিন যাই বললেন না কেন তা দিবাস্বপ্নই থেকে যাবে। কাতার বিশ্ব কাপ কিছুটা সূরসূরী দিলেও এতে সমস্যার সমাধান হবে না।
==
ইসলামি ইনক্লুসিফনেস (inclusiveness) বা একিভূতিকরনের মানসিকতা গ্রহন ও বর্জনের (exclusiveness )মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। এমন একটি মুসলিম বুদ্ধিবৃত্তিক জনপদ গড়ে উঠতে হবে যা সকল মতপার্থক্যকে(ইখতেলাফ) আত্মস্থ করতে সক্ষম হয়ে উঠবে। সকলের স্ব স্ব ক্ষেত্রে যতটুকু সাধ্য চেষ্টা,চিন্তা করে যেতে হবে। তাতে আর যাই না হোক আল্লাহর কাছে কিছু একটা জবাব দিলেও দেয়া যেতে পারে।
